‘অভিনয় আমার ভালো লাগে’

0
20

‘ন ডরাই’ কন্যা সুনেরাহ বিনতে কামাল। এক ছবি দিয়েই দর্শকের মন জয় করেছেন তিনি। সবখানে প্রশংসিত হয় তার অভিনয়। ভালোবাসা দিবসের একটি নাটকেও অভিনয় করেছেন। সামনে আরো অভিনয় করতে চান এ অভিনেত্রী। সম্প্রতি টকিজের মুখোমুখি হয়ে সুনেরাহ জানালেন তার বর্তমান কাজ, পছন্দ-অপছন্দ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ নানা বিষয় সম্পর্কে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাইসা জান্নাত

এখনকার ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাই

মিডিয়ার বাইরে আমার আরেকটি ক্যারিয়ার আছে। আমি এখন আমার জব নিয়ে ব্যস্ত আছি। এ মাসেই বেশকিছু প্রমোশন, ইভেন্ট ও ওয়েব সিরিজের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে আপাতত সব বন্ধ। তাই এখন অফিস, নিজেকে নিয়ে ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছি।

ভালোবাসা দিবসে ‘তোমার পাশে হাঁটতে দিও’ নাটকে অভিনয় করেছেন। এটি আপনার অভিনীত প্রথম নাটক

নাটকে কাজ করার খুব বেশি ইচ্ছা নেই।  ‘ক্লোজ আপ কাছে আসার গল্প-২’-এর এ নাটকটিতে অভিনয় করেছি। কারণ নাটকের গল্পটি পছন্দ হয়েছিল। ভিন্নধর্মী গল্পের টেলিফিল্ম, শর্ট ফিল্মের প্রস্তাব এলে অবশ্যই কাজ করব। একই ধরনের গল্প, নাটকে অভিনয় করতে চাই না।

চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রেও কি তাই?

চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ক্ষেত্রে এ রকম কোনো ক্যাটাগরি নেই। আমি সব ধরনের কনটেন্টে কাজ করতে চাই। তবে কনটেন্ট অবশ্যই ভালো হতে হবে। শুধু কমার্শিয়াল বা বিনোদনমূলক ছবি হলে কাজ করার ইচ্ছা নেই। ছবির গল্পে একটি শিক্ষণীয় বিষয় থাকতে হবে। পাশাপাশি ভালো টিম হতে হবে।

অভিনয় জগতে আসার পর আপনি একটি চলচ্চিত্র ও একটি নাটকে অভিনয় করেছেন। নিজেকে নিয়ে কতটা আশাবাদী?

আমি বিশ্বাস করি কেউ যদি পরিশ্রমী হয়, তাহলে তার পক্ষে সবকিছু সাফল্যের সঙ্গে করা সম্ভব। আশা করছি, ভালো কিছু করতে পারব। এখন অনেক শিক্ষিত, প্রতিভাবান নির্মাতারা কাজ করছেন। আবার কাজের ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহূত হচ্ছে। পাশাপাশি অনেক ভালো টিমও কাজ করছে। আমার মনে হয় আগের থেকে এখন ভালো ভালো কাজ হচ্ছে। তাই নিজেকে নিয়ে আমিও অনেক আশাবাদী।

ভবিষ্যতে কি অভিনয় নিয়েই থাকার ইচ্ছা?

খুব বেশি পরিকল্পনা করে কাজ করা হয় না। তবে যদি মিডিয়া অঙ্গনে থাকি, তাহলে অবশ্যই অভিনয় করতে চাই। কারণ অভিনয় আমার ভালো লাগে।

আপনি নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রী। নিজের প্রজন্মকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

আমি একটু নিজের মধ্যে থাকতে পছন্দ করি। আমার চারপাশে কে কী করছে, এসব নিয়ে তেমন ভাবা হয় না। তবে নতুন প্রজন্মের যারা কাজ করতে আসছেন, তারা সবাই ভালো কাজ করছেন। আগে ফিগার, কথা বলার টোন অর্থাৎ সৌন্দর্যের বিষয়গুলো একটু বেশি গুরুত্ব দেয়া হতো। কিন্তু এখন এগুলো অনেক কমে গেছে। আমি বলব, আমার প্রজন্মের যারা, তারা বেশ বোধবুদ্ধিসম্পন্ন। জেনে-বুঝে কাজ করছে। বিষয়টি খুব ভালো লাগে।

অনেকের অভিযোগ, মিডিয়ায় কাজের পরিবেশ নেই। আপনি কি একমত?

কাজের পরিবেশ নেই এটা ঠিক নয়। আসলে পরিবেশ নিজেকে তৈরি করে নিতে হয়। আমি যদি কোনো পরিবেশে কাজ করতে না পারি, তাহলে সেটা আমার ব্যর্থতা। সবকিছুই যে আমাদের নিজের ভাবনার মতো হবে, তা নয়। অনেক কিছু মেনে নেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।

চলার পথে অনেক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। আপনার ক্ষেত্রেও নিশ্চয় তার ব্যতিক্রম ঘটেনি

আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী একজন মেয়ে। তাই অন্যের কথায় খুব বেশি প্রভাবিত হই না। অভিনয়ে আসার আগে দুটি বিষয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। আমার গায়ের রঙ নিয়ে অনেকেই কথা বলত। আর একটা বিষয় হলো মডেলিং। অনেকেই বলত আমি তো একজন মডেল। মডেলরা কি অভিনয় পারে! পরিবার আমাকে অনেক সমর্থন করেছে, আবার কিছু বাধাও ছিল। তবে এ বিষয়গুলোই আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

সামনে কি আরো পড়াশোনার ইচ্ছা আছে?

পড়াশোনা পুরোপুরি শেষ করিনি। আবার চলছে তাও নয়। মাঝখানে কিছুটা বিরতি পড়ে গিয়েছিল। সামনে আরো পড়াশোনা করার ইচ্ছা আছে।

সূত্র : বনিক বার্তা