‘নিপীড়িত মানুষের কথা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া আমাদের স্বপ্ন’

0
29

গানের দল ‘মাদল’। প্রথম দিকে ২০০৯ সালে সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরে ২০১১ সালে শুধু গানের দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। মাদল গানের দল হিসেবেই বেশি পরিচিত। বরেন্দ্র অঞ্চল রাজশাহীতে দলটির জন্ম। দীর্ঘ পথচলায় দলটি শ্রোতাদের অনেক ব্যতিক্রমী গান উপহার দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে গেছে তাদের গান। মূলত ভিন্নধর্মী গানের কথা আর সুরের কারণে ‘মাদল’ সবার কাছে বেশ পরিচিত। তাদের বর্তমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, লক্ষ্য ও নানা প্রতিবন্ধকতা নিয়ে টকিজের সঙ্গে কথা হয় দলটির সদস্যদের। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন রাইসা জান্নাত—

দলের বর্তমান কার্যক্রম

এখন আমরা অ্যালবামের কাজ করছি। এটা আমাদের প্রথম অ্যালবাম। মাদল ১০ বছর অতিক্রম করেছে। কিন্তু দীর্ঘ এ পথচলায় আমরা কোনো অ্যালবাম বের করিনি। কারণ আমরা শুরু থেকেই ধীরে ধীরে অ্যালবামের কাজ করতে চেয়েছি। এখন মনে হয়েছে অ্যালবাম বের করার উপযুক্ত সময় এসে গেছে।

অ্যালবামের টুকিটাকি

অ্যালবামে কয়টি গান থাকবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এখনো গানের কাজ চলছে। তবে অ্যালবামে মোট ১০টি গান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে হয়তো আরো কিছু গান যোগ হতে পারে। এর মধ্যে আমাদের নিজস্ব ভাষার কয়েকটি গান থাকবে। অ্যালবামের জন্য এরই মধ্যে আমরা পাঁচ-ছয়টি গানের কাজ প্রায় শেষ করেছি।

গানের বিষয়বস্তু

আমাদের ব্যান্ডের প্রতিটি সদস্যই বিভিন্ন জাতিসত্তার। বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়নের প্রতিবাদে গান করতে গিয়েই মাদলের জন্ম। সেই জায়গা থেকে তাদের নিপীড়নের কথা গানের বিষয়বস্তু হিসেবে থাকবে। তবে কাজ করতে গিয়ে আমরা দেখেছি বিশ্বজুড়েই পিছিয়ে পড়া, সুবিধাবঞ্চিত মানুষ কোনো না কোনোভাবে নির্যাতিত, নিপীড়িত হচ্ছে। তারা যে জাতিসত্তারই হোক না কেন। আমরা আমাদের বিভিন্ন গানে তাদের কথাও তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

অ্যালবামের প্রকাশ

২০২১ সালে নভেম্বরে মাদলের এক যুগ পূর্তি হবে। যুগপূর্তি উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই অনুষ্ঠানেই আমাদের দলের প্রথম অ্যালবামটি প্রকাশের ইচ্ছা আছে।

দলের অন্যান্য কার্যক্রম

অ্যালবামের গানের পাশাপাশি আমরা নিয়মিত কনসার্ট করছি। গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ‘বৈচিত্র্যের ঐকতান’ শিরোনামের একটি অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেছি। মাদল ছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি গানের দল সেখানে গান পরিবেশন করেছে। প্রতি মাসেই আমরা কনসার্ট করছি।

দীর্ঘ পথচলায় নানা প্রতিবন্ধকতা

নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের একটি ব্যান্ডদল জাতীয় পর্যায়ে গান গাইতে পারে—এ ধারণাটি সেই সমাজের অধিকাংশ মানুষের ছিল না। আমরা যখন কাজ শুরু করি, তখন নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের ব্যান্ড ছিল হাতে গোনা। যাত্রার শুরু দিকে আমাদের লক্ষ্য ছিল নিজেদের কথাগুলো যেন আমরা নিজেরাই বলতে পারি। বেশকিছু ভালো ব্যান্ডের সহযোগিতায় আমরা একটা অবস্থানে এসেছি। দলের শুরুর গল্পে ‘সমগীত’-এর কথা না বললেই নয়। সমগীত, লীলা’র মতো ব্যান্ডগুলো আমাদের যাত্রাপথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এ রকম অনেক গানের দল আছে, যারা সহযোগিতা না করলে আমরা হয়তো অনেক আগেই ঝরে পড়তাম। পরে জলের গান, সহজিয়া, মেঘদলসহ অন্যান্য ব্যান্ডের সঙ্গে পরিচয় হওয়ায় খুব বেশি সমস্যা হয়নি।

একটা সমস্যা হলো আমাদের গানে প্রেমের গল্প নেই। আমরা যে ঘরানার গান করে থাকি, শ্রোতারা সেগুলো শুনে খুব একটা অভ্যস্ত নয়। এটা স্বাভাবিক বিষয় বলে আমরা মনে করি। তবে মাদলের গান মানুষ শুনছে।

কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নপূরণ

নিপীড়িত মানুষের কথা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া আমাদের স্বপ্ন। আমাদের ধারণা, আমরা এখনো সে স্বপ্ন পূরণ করতে পারিনি। এর জন্য যে পরিমাণ কাজ করা প্রয়োজন, তা আমরা এখনো করতে পারিনি। নানা প্রতিবন্ধকতা আছে, সেগুলোও এখনো ঠিকঠাক কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। তবে শুধু মাদলের একার পক্ষে এ স্বপ্নপূরণ সম্ভব নয়। অল্পসংখ্যক দল দিয়েও নয়। সমগীত, এফ মাইনর—এ রকম আরো অনেক ব্যান্ড গড়ে তোলা দরকার। আরো অনেক গানের প্রয়োজন। তাহলেই হয়তো আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব।

আগামীর  লক্ষ্য

নিজেদের লেখা গানের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করার ইচ্ছা আছে। গানগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে এবং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চাই। আমরা নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়ের নয়, বরং সবার গানের দল হিসেবেই পরিচিতি লাভ করতে চাই।

মাদল ব্যান্ডের সদস্য: শ্যাম সাগর মানকিন (ভোকাল), হরেন্দ্রনাথ সিং (মাদল), জেমসন আমলাই (গিটার), রিটন চাকমা (গিটার), অন্তর স্কু (বেজ গিটার), এন্থনী রেমা (ড্রামস ও কাজন), উশৈসিং মারমা (গেস্ট গিটারিস্ট), যোয়েল চাকমা (ম্যানেজার ও চিত্রগ্রাহক)।

সূত্র : বনিক বার্তা