‘স্বপ্নবাজির জানিয়া ক্যারিয়ারের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং চরিত্র’

0
27

২০১২ সালে ভালোবাসার রঙ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয় জগতে পা রাখেন মাহিয়া মাহি। অভিনয় ও মেধা—এ দুইয়ের সমন্বয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি অভিনয় করেছেন কলকাতার একাধিক ছবিতে। টকিজের মুখোমুখি হয়ে মাহি জানালেন তার চলচ্চিত্র, কাজ ও আনুষঙ্গিক নানা বিষয় সম্পর্কে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন রাইসা জান্নাত—

এখনকার ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাই।

স্বপ্নবাজি ছবির শুটিং চলছে। প্রথম লটের কাজ শেষ করেছি। দ্বিতীয় লটের কাজ শিগগিরই শুরু করব। পাশাপাশি আগামী মাসে ওয়াজেদ আলী সুমনের ব্লাড ছবির কাজ শুরুর কথা রয়েছে। এ ছবিতে আমার বিপরীতে ইমনকে দেখা যাবে। তার সঙ্গে প্রথমবারের মতো কাজ করতে যাচ্ছি।

স্বপ্নবাজি ছবির প্রস্তুতি নিয়ে কিছু বলুন।

তেমন কোনো প্রস্তুতি নিইনি। আমি পুরোপুরি পরিচালকের ওপর নির্ভর করেছি। আগে থেকে প্রস্তুতি নিলে দেখা যায় আমি অভিনয় খারাপ করি। তাই সে রকম কোনো প্রস্তুতি নেয়া হয়নি। ছবিতে আমার ধূমপান থেকে শুরু করে বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবনের কিছু দৃশ্য আছে। এগুলো করতে গিয়ে কোনো কিছু বুঝতে না পারলে পরিচালকসহ অন্যান্য কলাকুশলী আমাকে নানাভাবে সহযোগিতা করছেন। এভাবেই আসলে কাজ করছি।

ছবিতে কাজ করতে গিয়ে কেমন লাগছে?

এখানে আমার চরিত্রের নাম জানিয়া। এটা আমার ক্যারিয়ারের সবচয়ে চ্যালেঞ্জিং চরিত্র। চরিত্রটিকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি।

কী ধরনের চরিত্রে কাজ করতে পছন্দ আপনার?

একটু ভিন্নধারার চরিত্র। অ্যাকশনধর্মী চরিত্র করতেও ভালো লাগে। আমার ইচ্ছা আছে, আনন্দ অশ্রু ছবিতে শাবনূর আপুর দোলা চরিত্রটি করার। এটি একটি প্রেমের চরিত্র। যদি কখনো সুযোগ হয় খুশি হব।

আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে নারী প্রধান চরিত্রগুলো পেতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় কিনা?

অবশ্যই। আমাকে এ ধরনের চরিত্র পেতে কষ্ট করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন কাজ করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়েছে। জাজ মাল্টিমিডিয়া আমাকে এ সুযোগটা দিয়েছে। আমাকে নিয়ে নির্মিত প্রথম নারীকেন্দ্রিক ছবি অগ্নি। আমি চরিত্রটি করতে পারব কিনা বা ছবিটি কতটা ব্যবসাসফল হবে—এসব বিষয়ে তারা নিশ্চিত ছিল না। তার পরও তারা আমাকে বিশ্বাস করেছে। আমি সফল হয়েছি। আমি মনে করি, নারী অভিনয় শিল্পীদের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখা উচিত। যার চর্চা আসলে খুব বেশি হয় না ইন্ডাস্ট্রিতে।

এক্ষেত্রে নির্মাতাদের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত বলে মনে করেন?

নির্মাতাদের ভূমিকা অনেক। কোন গল্পে কাকে নিলে ভালো হবে, সেটা তারাই নির্বাচন করে থাকেন। কাজেই তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

ইন্ডাস্ট্রিতে নারী অভিনয় শিল্পীদের কাজের পরিবেশ কেমন?

আমি বলব, ঠিক আছে। তা না হলে কাজ করতে পারতাম না। আগেও কাজের পরিবেশ ছিল। কিন্তু মাঝখানে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের অবস্থা কিছুটা খারাপ ছিল। আবার সামঞ্জস্য চলে এসেছে। অগ্নি, বিশ্বসুন্দরী—এ ছবিগুলো কিন্তু নারীকেন্দ্রিক। ধীরে ধীরে অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। সামনে আরো হবে বলে আশা করছি।

কখনো ভেবেছিলেন চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন?

চাইনি বললে ভুল হবে। চলচ্চিত্র, চলচ্চিত্রের অভিনয় শিল্পী—এ বিষয়গুলো তো আগে স্বপ্নের মতো ছিল। আমি চলচ্চিত্রে আসব, অভিনয় করব এটা ভাবিনি। কিন্তু কোনো না কোনোভাবে অভিনয়ের সঙ্গে জড়িয়ে গেছি। ছোটবেলায় ডাক্তার হতে চেয়েছি। কারণ আমার অ্যাপ্রোন পরার খুব ইচ্ছা ছিল।

তারকা ও অভিনেত্রী দুটোর মধ্যে এক ধরনের পার্থক্য করা হয়। আপনার কী মত?

তারকা ও অভিনয় শিল্পী—দুটো বিষয়ের মধ্যে আমরা পার্থক্য তৈরি করি। সব তারকা অভিনয় পারেন তা কিন্তু নয়। এখন তো ফেসবুক, ইউটিউবে অনেক সেলিব্রেটি দেখা যায়। আমার মতে, তারা অভিনয় শিল্পী নন। যদিও অভিনয় শিল্পী কিংবা সংস্কৃতির অন্যান্য শাখার শিল্পীদেরই তারকা হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমাদের এখানে উল্টোটা দেখা যায়।

অভিনয়ে আসার পর কোনো কিছুর শূন্যতা কাজ করে কি?

এখন সিনেমা দেখার আগ্রহটা অনেকটা কমে গেছে মানুষের। আগে শুক্রবার এলে বিকালে সবাই মিলে বিটিভিতে সিনেমা দেখতাম। তখন সিনেমা দেখার একটা আকুল ইচ্ছা কাজ করত। চলচ্চিত্রের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ ছিল না। তখন অনেক হল ছিল, চুরি করে মানুষ ছবি দেখতে যেত। কিন্তু এখন এত বেশি চ্যানেল, ডিজিটাল প্লাটফর্ম হয়েছে যে এ বিষয়গুলো আর তেমন কাজ করে না। এগুলো খুব মিস করি।

ভবিষ্যতে কি অভিনয় নিয়ে থাকার ইচ্ছা?

আমি একজন অভিনয় শিল্পী। তাই অভিনয় নিয়ে থাকতে চাই। চলচ্চিত্রে আরো অনেক দিন কাজ করার ইচ্ছা আছে।

সূত্র : বনিক বার্তা