জয় দিয়ে শুরু টাইগারদের

0
24

সমালোচনা ও চাপ নিয়ে সিলেটে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ দল। কিন্তু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে রেকর্ড জয় দিয়ে সব উড়িয়ে দিয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। টসে জিতে সফরকারীদের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে ৩২১ রান তোলে ৬ উইকেট হারিয়ে। জবাবে সফরকারীরা গুটিয়ে যায় ১৫২ রানে। ১৬৯ রানের সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয় পায় বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৮-তে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় জয়টি ছিল ১৬৩ রানের। আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগের জয়টি ছিল ১৪৫ রানের ব্যবধানে ২০১৫ সালে। এ জয়ে লিটন দাস ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দারুণ অবদান রাখেন।

যদিও ১২৬ রান করে ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। বল হাতে দারুণ চমক দেখান লম্বা সময় পর ইনজুরি থেকে ফেরা পেসার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। শুরুতে ব্যাট হাতে ৩ ছক্কায় ১৫ বলে ২৮ রান করেন তিনি। এরপর বল হাতে নিয়ে ৭ ওভারে ২২ রান খরচ করে নেন ৩ উইকেট। দলের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজা ও অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ।
দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩শ’ রানের সংগ্রহ ছিল না বাংলাদেশের। এর আগে সর্বোচ্চ ৩২০ রান ছিল সেটি বুলাওয়েতে। গতকাল লিটন দাসের দারুণ এক সেঞ্চুরিতে ভর করে বড় লক্ষ্য ছুড়ে দেয় টাইগাররা। জবাব দিতে নেমে প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি সফরকারীরা। ৫ মাস পর দলে ফেরা পেস অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আঘাত হানেন। যদিও আগের ওভারে রিভিউ নিলেই টিনাশে কামুনহুকামুয়ের উইকেট মিলতো প্রথম ওভারে। কিন্তু সাইফুদ্দিন দলকে উইকেটের জন্য অপেক্ষা করতে দেননি। দ্বিতীয় ওভারেই তার বলে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়ে যান কামুনহুকামুয়ে। ১০ বল খেলে এই ওপেনার করেন ১ রান। এই আঘাত সামলে ওঠার আগেই সাইফুদ্দিনের দ্বিতীয় শিকার রেগিস চাকাভা। ১৮ বলে ১১ রান করা জিম্বাবুয়ের এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে ফেরান টাইগারদের তরুণ পেসার। তার বোলিং দেখে মনে হচ্ছিল না এত দিন পর বড় ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফিরেছেন।
২৩ রানে দুই উইকেট হারানো সফরকারীদের বড় আঘাতটা হানেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ৫ ম্যাচ ও ২৬৬ দিন পর নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৬৭তম উইকেট তুলে নেন মাশরাফি। তার শিকার প্রতিপক্ষ অধিনায়ক চামু চিবাবা। মাশরাফিকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে টাইমিং মিস করে মিড অনে ক্যাচ দেন মাহমুদুল্লাহর হাতে। এর মধ্যে কোনো রান যোগ করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। কিছুটা লড়াই করলেও দলীয় ৪৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় তারা। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরে যান জিম্বাবুয়ের আরেক ব্যাটিং ভরসা ব্রেন্ডন টেইলর। তবে লড়াই করছিলেন সিকান্দার রাজা। বলা চলে তিনিই শেষ ভরসা। কিন্তু ১৮ রান করে বাজে শটে মোস্তাফিজুর রহমানের প্রথম শিকারে পরিণত হন। ফিজ দেরিতে উইকেট পেলেও দারুণ চাপে রাখেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের।
তবে অভিষেকে ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ওয়েসলি মাধেভেরে। তবে তরুণ এই অলরাউন্ডারকে থামান দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। ৪৪ বলে পাঁচ চারে ৩৫ রান করেন মাধেভেরে। ৮৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বড় হারই দেখছিল জিম্বাবুয়ে। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উকেটের পতন। শেষ দিকে মাতুমবোদজি ২৪ রান করে হারের ব্যবধানটাই শুধু কমিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে অধিনায়ক মাশরাফির দ্বিতীয় শিকার হয়ে হার নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। এর আগে টিরিপানোকে নিজের তৃতীয় শিকার বানান সাইফুদ্দিন আর মুমবাকে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন মিরাজ।
প্রায় ৮ মাস পর ওয়ানডেতে জয়ের সন্ধান পেলো টাইগাররা। ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দলের সর্বশেষ জয়টি ছিল ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে গেল বছর ২৪শে জুন।

সূত্র : মানবজমিন