টেস্টে ‘টিম বাংলাদেশ’ চান মুমিনুল

0
38

দেশের ১১তম টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক সৌরভ। কিন্তু তার নেতৃত্বে প্রথম তিন টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হার। এই অধিনায়কের প্রথম মিশন ভারতে। সেখানে আবার টাইগারদের টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবার গোলাপি বলে খেলতে নামে দিবারাত্রির ম্যাচও। সেখানে লজ্জা ও ভারাডুবির অন্যতম কারণ ছিল ব্যাটিং ব্যর্থতা। এবার পাকিস্তানে টেস্ট সিরিজ খেলতে গিয়ে একই চিত্র! এটি যে শুধু মুমিনুলের নেতৃত্বে হচ্ছে তা নয়। সাকিব আল হাসানও পথ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। সবশেষ ছয় টেস্টের পাঁচটিতেই ইনিংস ব্যবধানে হারের স্মৃতি টাইগারদের।

এমনকি বিদেশের মাটিতে সবশেষ ৮ টেস্টের সাতটিতেও একই ফল। কেন ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী ফরম্যাটে বাংলাদেশের এমন নড়বড়ে অবস্থা! নয়া অধিনায়ক জানালেন টেস্টে সত্যিকারের ‘টিম বাংলাদেশ’ পাচ্ছেন না। সাকিব নিষিদ্ধ, ভারত সফরে তামিম ইকবালও পারিবারিক কারণে নিজেকে স্বেচ্ছায় সরিয়ে রেখেছিলেন। এবার পাকিস্তানে তিনি ফিরলেও নেই মুশফিকুর রহীম। শীর্ষ পেসার মোস্তাফিজুর রহমান এই আছেন তো এই নেই। সৌম্য সরকার, লিটন দাসরা নিজেদের প্রমাণে ব্যর্থ। দলের সেরা ক্রিকেটারদের আসা-যাওয়া আর তরুণ ও নতুনদের ব্যর্থতা সব মিলিয়ে যেন হ-য-ব-র-ল অবস্থা। মুমিনুল তার এই উপলব্ধি নিয়ে দৈনিক মানবজমিনকে বলেন, ‘এটি সত্যি আমার স্বীকার করতেও কোন দ্বিধা নেই টেস্টে ‘টিম বাংলাদেশ’ আমি পাচ্ছি না। কারো মধ্যে নেই আগ্রাসন, ভালো খেলার তাড়নাও যেন নেই। সবাই যেন আত্মবিশ্বাস হারিয়েছে। এটি হতে থাকলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন। আমাদের একটি দলের মতো খেলতে হবে। যেমনটা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে আকবর আলী, জয়রা খেলেছে। সত্যি কথা আমরা টেস্টে খুবই বাজে ক্রিকেট খেলছি।’
পাকিস্তানে ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হওয়ার অঙ্গিকার ছিল বাংলাদেশ দলের। ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির আসর বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগে (বিসিএল) দারুণ পাফরম্যান্স করা প্রতিটি ক্রিকেটারই দলে জায়গা পেয়েছিলেন। দেশ ছাড়ার আগে তামিম ইকবাল ট্রিপল সেঞ্চুরি করেন। মুমিনুল, লিটন, মাহমুদুল্লাহরা সেঞ্চুরি হাঁকান বিসিএলে। মোহাম্মদ মিঠুন, নাজমুল হোসেন শান্তরাও ছিলেন রানে। বোলাররাও ছন্দে ছিলেন। তাই আশা ছিল হয়তো ঘুরে দাঁড়াবে টেস্ট দল। কিন্তু না, হয়নি তা। এ নিয়ে মুমিনুল বলেন, ‘দেখেন প্রথমে বলে রাখছি দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সঙ্গে টেস্টের মান এক করে চিন্তা করলে হবে না। ঘরোয়া ক্রিকেট যতই ভালো হোক তা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে এক হবে না। বিশেষ করে টেস্টেতো আরো কঠিন। হ্যাঁ, সেঞ্চুরি করলে বা রানে থাকলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। আমাদের পাকিস্তান সফরের আগে এটিই ছিল একমাত্র সম্বল। আমরা সেখানে ১৭ বছর পর টেস্ট খেলেছি। রাওয়ালপিন্ডির উইকেট, কন্ডিশন কিছুই আমাদের জানা ছিল না। প্রস্তুতি বলতে কিছু ছিল না। তাই কঠিন হয়েছে আমাদের।’
তবে অধিনায়ক মুমিনুল হক প্রস্তুতির অভাব, নিয়মিত টেস্ট না খেলাকে কোনভাবে অজুহাত হিসেবে দেখাতে চান না। তিনি বলেন, ‘দেখেন অনেক কিছুর অভাব আছে, ছিল থাকবে। তাই বলে সেগুলোকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে নিজেদের ব্যর্থতাকে ঢাকতে চাই না। আমরা ব্যাটিং-বোলিং ও ফিল্ডিং তিন বিভাগেই ভালো করছি না। আমরা আমাদের যোগ্যতা অনুসারেও খেলতে পারছি না। লড়াই করার চেষ্টাতো করতে হবে। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের তৃতীয় দিনে আমাদের বোলিংটাকে মনে হয়েছে দারুণ। এই বিষয়টা খুব প্রয়োজন। টেস্টে বোলিং বলেন আর ব্যাটিং- অ্যাগ্রেশন থাকা খুবই জরুরী। টিকে থাকার মানসিকতা প্রয়োজন।’
সাকিব আল হাসান নেই। দলের সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েসদের দলে আসা-যাওয়া। মিডল অর্ডারের অন্যতম ভরসা মুশফিকুর রহীম না খেলা। মাহমুুদুল্লাহ রিয়াদের ফর্মহীনতা। এমনকি অধিনায়ক মুমিনুলও যেন খেই হারিয়েছেন ব্যাট হাতে। দেশের টেস্টে সেরা এই ব্যাটসম্যানও নিজেকে খুঁজে পাচ্ছেন না। এ সব বিষয় দারুণ প্রভাব ফেলছে দলের উপর। তবে অধিনায়ক মনে করেন সিনিয়রদের বদলে যারা দলে আসছেন তারাও নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। তিনি বলেন, ‘হতে পারে ইনজুরি, পারিবারিক, ব্যক্তিগত নানা কারণে সিনিয়র ক্রিকেটাররা দলে আসা-যাওয়ার মধ্যে আছে। কিন্তু যারা তাদের পরিবর্তে সুযোগ পাচ্ছে তাদের অবস্থা কী! তাদেরতো যোগ্য মনে করেই দলে নেয়া হচ্ছে। কিন্তু নতুন ও তরুণ যারা সুযোগ পেয়েছে তারাও অবদান রাখতে পারছে না। সুযোগটাও হাতছাড়া করছে। আমার কাছে মনে হয়েছে সত্যিকারের একটি টেস্ট দল আমি পাচ্ছি না। আবারো বলছি ভালো করতে হলে একটি দলের মতো খেলতেই হবে। নয়তো এক বা দুই জনের ওপর ভরসা করে অন্তত টেস্টে ভালো করা যাবে না।’

সুত্র : মানবজমিন