কাঁদলেন কাজী হায়াৎ

0
44

এক বছর আগেও বার্ধক্যজনিত রোগে মাঝখানে ভীষণ অসুস্থ ছিলেন দেশের গুনী নির্মাতা কাজী হায়াৎ। ওই সময় চিকিৎসার জন্য প্রায় ছয় মাস তাকে নিউইয়র্কে থাকতে হয়েছে। তখনও ভাবেননি তিনি সুস্থ হয়ে আবার সিনেমা নির্মাণের সুযোগ পাবেন! তবে ছয় মাস চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে আবার সিনেমা নির্মাণের সুযোগ পেয়েছেন। প্রথমবারের মতো শাকিব খানকে নিয়ে কাজ করেন তিনি। শাকিবের এসকে ফিল্ম প্রযোজিত তৃতীয় সিনেমা ‘বীর’-এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছেন কাজী হায়াৎ। গতকাল ঢাকা ক্লাবে ছিল এই সিনেমার মুক্তি উপলক্ষে একটি জমকালো অনুষ্ঠান। সেখানে কথা বলতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে কাঁদলেন কাজী হায়াৎ। তিনি এ সময় বলেন, কতোদিন বাঁচবো জানি না।

তবে হয়তো ‘বীর’ আমার শেষ ছবি। শাকিব তার টাকার ছবিতে আমাকে কাজের সুযোগ দিয়েছে এজন্য আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ।-এটুকু বলেই কেঁদে  ফেললেন কাজী হায়াৎ। অনেক হিট ছবি নির্মাণ করে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হওয়া এ নির্মাতা বলেন, ১৯৭৮ সালে আমার নির্মিত প্রথম ছবি ‘দ্য ফাদার’ মুক্তি পেয়েছিল। দীর্ঘপথ অতিক্রম করে আমার ৫০তম ছবি ‘বীর’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে। পুরো জার্নিতে আমি কষ্ট যেমন পেয়েছি, আনন্দও তেমন পেয়েছি। নিউ ইয়র্কে যখন চিকিৎসাধীন ছিলাম আমাকে নিয়ে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। তখন আমি পৌনে এক ঘণ্টা ছিলাম মৃতপ্রায়। তিনি আরো বলেন, সেই অবস্থা থেকে ফিরে এসে আবার সিনেমা করতে পারবো কখনোই ভাবিনি। এই ছবি করতে গিয়ে আমি অনেকের প্রতি রাগান্বিত হয়েছি, বকা দিয়েছি; প্রত্যেকের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। কারণ, বীরের পর আবার অ্যাকশন-কাট বলে ছবি নির্মাণ করতে পারবো কিনা এর কোনো গ্যারান্টি নাই। এখানেই হতে পারে সমাপ্তি! ‘বীর’ নির্মাণে প্রযোজক হিসেবে শাকিব কার্পণ্য করেনি। সে যেমন ভালো অভিনেতা, নায়ক তেমনি একজন পেশাদার প্রযোজক। শাকিব ও ইকবালের প্রযোজিত ছবি ‘বীর’। তাদের জন্য অনেক দোয়া থাকলো। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে আগামীকাল ৮০টি প্রেক্ষাগৃহে ‘বীর’ সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে। মুক্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে গতকাল ঢাকা ক্লাবের এই অনুষ্ঠানো আরো উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, চিত্রনায়ক ও সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান ফারুক, আলমগীর, চিত্রনায়ক শাকিব খান, ইমন, নিরব, নাদিম, খল অভিনেতা মিশা সওদাগর, পরিচালক ছটকু আহমেদ, সোহানুর রহমান সোহান, মুশফিকুর রহমান গুলজার, মালেক আফসারী, বদিউল আলম খোকন, সাদেক সিদ্দিকী, প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু, শামসুল আলমসহ অনেকে।

সুত্র : মানবজমিন