বেইজিংয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক

0
41

উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া নতুন করোনাভাইরাসে চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮১-তে দাঁড়িয়েছে। এ মুহূর্তে দেশটিতে প্রায় তিন হাজার মানুষ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত, যার মধ্যে ৪০০ জনের অবস্থা গুরুতর। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটির বিস্তার রোধে বেইজিংয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস অ্যাডহানম। খবর গার্ডিয়ান ও বিবিসি।

ভাইরাসের বিস্তার রোধে এরই মধ্যে চান্দ্র নববর্ষের ছুটির মেয়াদ আরো তিনদিন বাড়িয়ে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করেছে চীন। এদিকে গতকাল হুবেই প্রদেশের রাজধানী ও করোনাভাইরাসটি বিস্তারের কেন্দ্রস্থল উহান পরিদর্শন করেছেন চীনা প্রিমিয়ার লি কেকিয়াং। গতকাল পর্যন্ত প্রদেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬ থেকে ৭৬-এ দাঁড়িয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য অঞ্চলে আরো পাঁচজনের মৃত্যুর খবর জানা গেছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর পরই উহানসহ বেশকিছু শহর অবরুদ্ধ ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

চীনা প্রিমিয়ার এমন একটি সময় উহান পরিদর্শন করেছেন, যখন সংক্রমণের তীব্রতায় জর্জরিত শহরটিতে হাসপাতালের শয্যা, পরীক্ষার যন্ত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সংক্রমণের হার আরো বাড়তে পারে, এ আশঙ্কায় করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য এরই মধ্যে দুটি হাসপাতাল নির্মাণ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

গত চারদিনে কেউ উহান ত্যাগ করেনি বলে স্থানীয় সরকার জানিয়েছে। তবে শহরটির প্রায় ৪ হাজার ৯৬ পর্যটক এখনো দেশের বাইরে রয়েছে।

গতকাল দূরপাল্লার বাসসেবা বন্ধ করার কথা জানিয়েছে হুবেই প্রদেশসংলগ্ন চংকিং পৌরসভা। এর আগে সপ্তাহের শেষ দিকে দূরপাল্লার বাস বন্ধ করে সাংহাই ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ শানডং। এছাড়া পরিষেবা, চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান, ওষুধ সরবরাহকারক ও সুপারমার্কেট বাদে অন্যান্য সব কোম্পানিতে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কর্মীদের কাজে না ফেরার নির্দেশ দিয়েছে সাংহাই সরকার।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংক্রমণ নিয়ে ক্রমবর্ধমান আতঙ্কের মধ্যে ভাইরাসটির বিস্তার রোধে আলোচনার জন্য বেইজিং পৌঁছেছেন ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাডহানম। গতকাল চীনের সরকারি কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসেছেন তিনি।

উহানসহ বিভিন্ন শহর অবরুদ্ধ রাখার পর গত সপ্তাহে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক অবরুদ্ধের মেয়াদ কমিয়ে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

চীনের ব্যস্ততম ভ্রমণ মৌসুমে করোনাভাইরাসটির বিস্তার উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশজুড়ে ৫০ লাখের বেশি মানুষের ট্রেন, উড়োজাহাজ ও বাসে ভ্রমণ ভাইরাসটির দ্রুত বিস্তারের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।

এরই মধ্যে জাপান, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, স্কটল্যান্ডসহ বিশ্বের ১৩টি দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। চীনের বাইরে অন্তত ৪৪ জনের করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত চীনের বাইরে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

করোনাভাইরাসের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসযন্ত্রে তীব্র সংক্রমণ দেখা দেয়। এখন পর্যন্ত এর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিধেষক বা ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। যে কারণে ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। তবে করোনাভাইরাসে মৃতদের সিংহভাগই বয়স্ক বা যাদের আগে থেকেই শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা রয়েছে, এমন ব্যক্তি।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের জন্য এখন পর্যন্ত জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারির প্রয়োজনীয়তা দেখছে না ডব্লিউএইচও।

সুত্র : বনিক বার্তা