‘এক ফ্লোর থেকে আরেক ফ্লোরে দৌড় দিতাম’

0
27

একটা সময় টানা শুটিং করতেন চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পীরা। এখন আর তা আগের মতো নেই। পুরানো সেসব দিনের কথা এখনো মনে করেন চিত্রনায়িকা কেয়া। আজকের আলাপনের শুরুতেই সেই স্মৃতির রেশ টেনে বললেন, অনেকদিন পর কাজ শুরু করেছি। সিনেমার গল্পটি আমার ভালো লেগেছে। তাই আবার কাজ শুরু করলাম। বর্তমানে রাকিবুল আলম রাকিবের পরিচালনায় ‘ইয়েস ম্যাডাম’ সিনেমায় কাজ করছি। আগের সময়গুলোর কথা বেশ মনে পড়ে এখন।

একটা সময় এফডিসির সব ফ্লোরে শুটিং থাকতো। শিডিউল অনুযায়ী এক ফ্লোর থেকে আরেক ফ্লোরে দৌড় দিতাম। এখন তো সেই সময় নেই। তবে ভালো কিছু কাজ হচ্ছে। ‘ইয়েস ম্যাডাম’ সিনেমায়  কেয়াকে দর্শকরা একজন পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে দেখতে পাবেন। সৎ পুলিশ অফিসার হিসেবে দেখা যাবে তাকে। কেয়া বলেন, সৎ পুলিশ অফিসার মানেই একটু কড়া মেজাজের। আমাকেও সেভাবেই দর্শকরা দেখতে পাবেন।

ছবিতেও আমার চরিত্রের নাম থাকছে কেয়া। প্রথমবার পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করছি। বেশ ভালোভাবে কাজ এগিয়ে চলছে। গত বছরের ডিসেম্বরে এ সিনেমার কাজ শুরু হয়। এরইমধ্যে টানা শুটিং করে ছবির ৭৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কঠিন বাস্তব’ ছবি দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন কেয়া। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ফিল্মি ক্যারিয়ার শুরু করেন এই নায়িকা। শুরুতেই তার অভিনয় দর্শকরা পছন্দ করেন। প্রথম সিনেমাতে নায়ক হিসেবে পান রিয়াজ ও আমিন খানকে। এরপর টানা প্রায় দুই ডজন ছবিতে অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রে কেয়া মান্না, রুবেল, আমিন খান, রিয়াজ, ফেরদৌস আর শাকিব খানের মতো হিরোদের বিপরীতে একসময় অভিনয় করেছেন। সুন্দরী এই নায়িকা ‘তিব্বত স্নো’ বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হয়ে তৈরি করেন ক্রেজ।

তারপর একে একে ‘তিব্বত লিপজেল’, ‘সাগুফতা’, ‘জিএমজি এয়ারালাইন্স’, ‘বসুধা হাউজিং’ প্রভৃতি বিজ্ঞাপনে দারুণভাবে নিজেকে মেলে ধরেন। বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হিসেবে ঢালিউডের নায়িকাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম সফল মুখ। এদিকে খুব অল্প সময়ে বেশকিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় এলেও পরবর্তীতে হঠাৎই যেন হারিয়ে যান কেয়া। সবশেষ মুভি প্ল্যানেটের ব্যানারে এ নায়িকা সাফিউদ্দিন সাফি পরিচালিত ‘ব্ল্যাকমানি’ ছবিতে অভিনয় করেন। সেটাও প্রায় চার বছর আগের কথা। এ ছবিতে সাইমন সাদিকের বিপরীতে দর্শকরা তাকে দেখেছেন। অনেকদিন পর আবার কাজে ফিরেছেন তিনি। অনেকদিন পর আবার ক্যামেরার সামনে দাড়িয়েছেন। তাই কোনো অসুবিধা বা ক্যামেরার সামনে দাড়ানোর পর ভয় কাজ করছে কি? কেয়া বলেন, না।

ক্যামেরার সামনে দাড়ালে বরং ভালোই লাগে। এতদিন কাজ করিনি। তাই কাজটাকে মিস করি। আর কথায় আছে, যে সাঁতার কাটতে জানে তাকে পুকুরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলেও সে ঠিকই সাঁতার কেটে ওপারে যেতে পারবে। জানা বিষয় কখনই মানুষ ভোলে না। অভিনয়টাও আমার কাছে তেমন। আমি বরং কাজটি এনজয় করছি। সামনে গানের ও বাকি সিকোয়েন্সের কাজ শুরু হবে। খুব শিগিগরই শুটিং শেষ করে ডাবিংয়ে যাবো আমরা। কেয়া অভিনীত নতুন সিনেমা ‘ইয়েস ম্যাডাম’ এ আরো অভিনয় করছেন রেসি, আমিন খান, অমিত হাসান, তানহা মৌমাছি, আমানসহ অনেকে। ছবিটিতে কেয়ার বিপরীতে দর্শকরা নায়ক হিসেবে শিপন মিত্রকে দেখতে পাবেন। কেয়া নতুন এই সিনেমা শুরু করার পর আরো বেশকিছু কাজের প্রস্তাব পেয়েছেন।

তবে সেগুলো নিশ্চিত না হয়ে জানাতে চান না। তিনি বলেন, আমি ‘আয়নাকাহিনী’, ‘ব্ল্যাকমানি’ এবং শুটিং চলতি ‘ইয়েস ম্যাডাম’ এর মতো ভালো কাহিনীর সিনেমাতে কাজ করতে চাই। ভালো চরিত্রে দর্শকের সামনে পর্দায় হাজির হতে চাই। সেই ধরনের গল্প পেলেই কেবল আমাকে নিয়মিত কাজে দেখা  যাবে। তার আগে না। চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর গ্ল্যামারাস নায়িকা হিসেবেই আখ্যায়িত হয়েছিলেন কেয়া। শুরুর দিকে খুব মনোযোগ দিয়ে কাজও করেছেন। তবে মাঝে কিছুটা সময় ডুব দিলেও এখন ভালো কাজে নিয়মিত হতে চান তিনি।

সুত্র : মানবজমিন