জাকারবার্গ ও ফেসবুকের কঠোর সমালোচনায় ‘দ্য ডিক্টেটর’খ্যাত তারকা

0
35

সোশ্যাল মিডিয়ার সবগুলো প্লাটফর্মের মধ্যে ফেসবুক সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। ফেসবুকের নেশায় মোহাচ্ছন্ন কিশোর, তরুণ, যুবা এমনকি বৃদ্ধরাও।
তবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কটাক্ষ করেছেন ব্রিটিশ কমেডিয়ান সাশা ব্যারন কোহেন।

তিনি বলেছেন, ‘১৯৩০ সালে যদি ফেসবুক থাকত তাহলে হিটলারকে তার ইহুদি বিদ্বেষী ধ্যান ধারণা প্রচারের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিতো এর কর্তৃপক্ষরা।’

সম্প্রতি নিউইয়র্কে অ্যান্টি-ডিফেমেশন লিগের একটি সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফেসবুকের এমন সমালোচনা করেন ‘দ্য ডিক্টেটর’খ্যাত এই তারকা।

ফেসবুকের রাজনৈতিক প্রচারণাকে কেন্দ্র করে ভুল তথ্য ছড়ানো হয় অভিযোগ করে এর প্রধান মার্ক জাকারবার্গের কঠোর সমালোচনা করেন ব্যারন কোহেন। উল্লেখ্য, রাজনৈতিক প্রচারণায় ভুল তথ্য না ছড়াতে নিশ্চিত করতে ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠান ও সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি নীতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

গত অক্টোবর মাসে এ নিয়ে একটি সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়।

সে মর্মে ২২ নভেম্বর থেকে বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রচার করা থেকে বিরত থাকবে বলে ঘোষণা দেয় টুইটার। টুইটারের ঘোষণার পর একই নিয়ম অনুসরণ করতে চাপ দেয়া হয়েছে ফেসবুককে।

তবে অক্টোবরের সেই সম্মেলনে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রচারণা নিষিদ্ধ না করার সিদ্ধান্তে সমর্থন করেছিলেন মার্ক জাকারবার্গ। এরপর জাকারবার্গের ঐ বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে ব্যারন কোহেন বলেছেন, ‘আপনি যদি ফেসবুককে টাকা দেন, তাহলে তারা যে কোনো রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন চালাবে। বিজ্ঞাপনটি সত্য না মিথ্যা সেদিকে তাদের কোনো নজরই নেই। টাকাই মূখ্য তাদের কাছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘হিটলারকেও ‘ইহুদি সমস্যার সমাধান’ বিষয়বস্তুতে ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন প্রচার করতে দিত ফেসবুক। ভাগ্যিস সে সময় ফেসবুক ছিল না।’

ব্যারন কোহেন আরও বলেন, ‘এখনই উপযুক্ত সময় যে, সামাজিক মাধ্যম কীভাবে ঘৃণা, ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা ছড়ায় তা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার ও এসব বন্ধ করার। আমরা সবাই এ বিষয়ে একমত যে, ধর্মান্ধ ও শিশু নির্যাতনকারীদের চিন্তাভাবনা প্রসারের উদ্দেশ্যে ফেসবুককে বিনামূল্যে একটি প্ল্যাটফর্ম দেয়া মোটেই উচিত হবে না।’

ফেসবুকের পাশাপাশি গুগল, টুইটার ও ইউটিউবের সমালোচনা করতেও ছাড়লেন না এই জনপ্রিয় এই অভিনেতা।

তিনি বলেন, ‘এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোটি কোটি মানুষের মধ্যে অস্বাভাবিক বিষয়বস্তুর জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।’

এদিকে অভিনেতা ব্যারন কোহেনের এমন সব সমালোচনার জবাবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বিবৃতি দিয়েছে।

তারা বলছেন, ব্যারন ভুল জানেন। ফেসবুকের নীতিগুলো ভুল বুঝেছেন তিনি। ফেসবুকে ঘৃণা উদ্রেককারী বক্তব্য প্রচার করা নিষিদ্ধ।