যে কারণে নির্ভীক ক্রিকেট খেলতে পেরেছেন মুশফিক

0
17

২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের কাছে মাত্র ১ রানে হারে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে দলকে জয়ের কিনারায় পৌঁছে দিয়েও জেতাতে পারেননি মুশফিকুর রহিম। অন্তিমলগ্নে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এর পরই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েন টাইগাররা। সেই পরাজয়ের যন্ত্রণা এখনও তাড়া করে তাকে। স্বভাবতই রবিবাসরীয় ম্যাচে নয়াদিল্লিতে অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ম্যাচ জেতানো ইনিংস স্বস্তি দিচ্ছে মিস্টার ডিপেন্ডেবলকে।

১৪৯ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করে ৭ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের নায়ক মুশফিক। ৪৩ বলে ৬০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। এতে সিরিজে ব্যাকফুটে চলে গেছে ভারত, ১-০তে এগিয়ে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

স্বাগতিকদের ডেরায় লিড পাওয়ার আনন্দে মুশফিক বলেন, ভারতের বিপক্ষে অনেক ক্লোজ ম্যাচ হেরেছি। তাই আমরা নিজেদের কাছেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম- পরে যদি এমন কোনো হাড্ডাহাড্ডি পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা হলে কিছুতেই হেরে ফিরব না।

গত দুই মাস খুব খারাপ কেটেছে বলে জানিয়েছেন মুশি। ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে এ সময়টি সবচেয়ে কঠিন ছিল বলে চিহ্নিত করেছেন তিনি। তার কথায়, বাংলাদেশ ছাড়ার আগে বলে এসেছিলাম- আমরা যদি কয়েকটা ম্যাচ জিতি তা হলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। আমরা সেটিই করেছি। এ ছন্দেই খেলতে চাই। ধারাবাহিক থাকাই আমাদের লক্ষ্য।

ভারতের বিপক্ষে খেলার হোমওয়ার্ক নিয়ে মুশফিক বলেন, টিম ইন্ডিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ আমরা শেষ ওভারে হেরেছি। একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে, অপরটি নিদাহাস ট্রফিতে। সেই ম্যাচ দুটি থেকে শিক্ষা নিয়েছি আমরা। এ পরিস্থিতি কীভাবে অতিক্রম করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেছি।

তিনি বলেন, রিয়াদ ভাইকে (মাহমুদউল্লাহ) বলছিলাম, এক-দুই করে জয়ের দিকে এগিয়ে চলি। বড় শট নেয়ার দরকার নেই। এ ম্যাচে আমাদের হারানোর কিছু ছিল না। শুধু এ ম্যাচই নয়। এ সিরিজেই আমাদের হারানোর কিছু নেই। ফলে আমরা নির্ভীক ক্রিকেট খেলতে পেরেছি। নিজেদের ক্ষমতা মেলে ধরার স্বাধীনতাও পেয়েছি।

এ জয়কে ‘অসাধারণ’ অ্যাখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান বলেন, বাংলাদেশের কাছে এটি দারুণ মুহূর্ত। টি-টোয়েন্টিতে এর আগে ভারতকে হারাতে পারিনি। এ সিরিজে আমরা কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে পাচ্ছি না। কিন্তু যেভাবে তরুণ ক্রিকেটাররা খেলেছে, বোলাররা এ পিচে যে বোলিং করেছে, এর তুলনা হয় না। আর আমি ক্রিকেটার হিসেবে উন্নতির জন্য সেরা চেষ্টা করে চলেছি প্রত্যেক দিন।